সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর তমালের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দায়ের করা এ মামলার নং হচ্ছে ১৯২০/২২।
যেখানে সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, ‘অধ্যাপক তমাল বিভিন্ন প্রোজেক্টে ভলান্টিয়ারের কাজের মাধ্যমে তার স্ত্রী’র সাথে ঘনিষ্ট হতে থাকেন। পরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য তার স্ত্রীর সাথে ওই অধ্যাপকের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। এরপর অধ্যাপক তমাল বিভাগের সভাপতি থাকাকালে ২০১৯ সালে দর্শন বিভাগের বাৎসরিক বনভোজনের সময় তাদেরকে একসাথে দেখা যায়। সে সময় তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।’
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘অভিযোগকারী তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে অধ্যাপক তমালকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সে সময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে তার স্বামীকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়। এছাড়া ক্যাম্পাসে বিভিন্ন উৎসবের সময় তাদের একসাথে দেখা গেছে। অধ্যাপক তমাল বিভিন্ন সময়ে বাসায় ডেকে নিয়ে প্রলোভনের মাধ্যমে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। এ ধরনের ঘটনা এবং মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়া আমার জন্য বিব্রতকর। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেই বা কিভাবে আমার মনে হয় এ ব্যাপারে শিক্ষকদের সতর্ক থাকা উচিত। তারপরে শিক্ষকরা যদি এভাবে বারবার কল করে মানববন্ধনে উপস্থিত হতে বলেন তাহলে সেটা আমাদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়। মানববন্ধনে থাকতে না চাইলেও থাকতে বাধ্য হই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি রাতে গ্রুপে একটা মেসেজ পেলাম যেখানে লেখা আমাদের ডিপার্টমেন্টের এক ম্যাডাম মানববন্ধনে উপস্থিত থাকতে বলছেন। সকালে আবার ম্যাডাম কল দিলেন। তখন মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না।’
এদিকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা দর্শন বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী শিমুল বিন সিদ্দিক বলেন, ‘আজকের মানববন্ধনে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি। আমরা শিক্ষার্থীরাই নিজ উদ্যোগে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছি। আমাদের স্যারের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলার প্রেক্ষিতেই আমরা মানববন্ধন করেছি।’
আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া ইমু বলেন, ‘আমাদের স্যারকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে করা এই মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছি। স্যারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে এটা একটা ব্যক্তিগত বিষয়। কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সংবাদপত্রে কেনো আসবে। আমরা শিক্ষার্থীর স্বপ্রনোদিত হয়েই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছি। জোর করে করা হলে সবাই অংশগ্রহণ করতো। এখানে সবাই অংশগ্রহণ করেনি।’
বিভাগের প্রভাষক সাথী আক্তার বলেন, ‘বিভাগ থেকে কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে যেতে বাধ্য করেছে বলে আমার জানা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছোট না যে তাদের বাধ্য করা যায়।’
জোর পূর্বক শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করানোর এ অভিযোগের ব্যাপারে দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘মানববন্ধনের বিষয়টি আমি অবগত নয়। তারা কি কারণে মানববন্ধন করেছে আমি জানিনা। বিভাগের কাজে ব্যস্ত ছিলাম।’

